Uncategorized

স্বাস্থ্যকর খাবার সুস্বাস্থ্যের দাবিদার

আমরা জানি স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। কিন্তু ব্যস্ততার এই যুগে আমরা কয়জন আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন। আমরা দৈনন্দিন কাজে এতটাই ব্যস্ত থাকি যে স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবার সময় আমাদের হয়ে ওঠে না। আমরা বেশিরভাগ মানুষই আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীন।  আমরা মনে করি বেঁচে থাকার জন্য শুধু খাবার খেলেই হবে। আসলেই না,আমাদের সুস্থভাবে বাঁচার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। কারণ বেঁচে থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের কোন বিকল্প নেই। 

আমাদের নিয়মিত একটা রুটিন অনুযায়ী খাবার খাওয়া উচিত। পুষ্টিকর খাবার আমাদের দেহে জোগায় শক্তি। আমরা পাই দৈনন্দিন জীবনে কাজ করার শক্তি। 

তাই আমরা যারা স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন তাদের উচিত অবশ্যই স্বাস্থ্যর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা।পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। 

আবার সব ধরনের খাবারে সকল ধরনের পুষ্টিগুণ থাকে না। তাই আমাদের খাবারের পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে খাবার গ্রহণ করা উচিত। শুধু খাবার খেলেই হবে না। পুষ্টিগুণ জেনে খাবার গ্রহণ করলে আমরা পাবো সুস্থ ও ফিট জীবন। সুস্থ ও ফিট থাকার জন্য আরো বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন। 

স্বাস্থ্যকর খাবারের গুরুত্ব 

আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের কোন বিকল্প নেই। সুস্থভাবে বাঁচার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। শরীর সুস্থ রাখার প্রথম শর্ত হল স্বাস্থ্যকর খাবার। শরীর সুস্থ না থাকলে আমরা কোন কাজেই শক্তি খুঁজে পাই না। শরীর সুস্থ না থাকলে আমাদের মেজাজ ফুরফুরে থাকে না।শরীর ভালো রাখার জন্য অনেক ধরনের উপায় আছে। তার মধ্যে প্রথম উপায় হল স্বাস্থ্যকর খাবার। স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন। 

সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য সবারই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। আর এই স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় আমাদের ৬টি খাদ্য উপাদান অবশ্যই রাখা উচিত। যেমন- শর্করা, স্নেহ,প্রোটিন, খনিজ,ভিটামিন ও পানি। এমন সব খাবার খাওয়া উচিত যে খাবারগুলোতে এই ৬ ধরনের খাদ্য উপাদান বিদ্যমান থাকে। 

তাহলে আমরা পাবো সুস্থ ও ফিট বডি। 

আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে। যে খাবারগুলো খেলে আমরা এই সকল ধরনের খাদ্য উপাদান পাবো। আর আমাদের শরীর থাকবে সুস্থ ও ফিট। 

 ১.দুধ

গরুর দুধ অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি পানীয়। গরুর দুধে আছে উচ্চমানের ক্যালসিয়াম।এছাড়াও আছে প্রোটিন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ভিটামিন- এ,ভিটামিন- ডি,ভিটামিন-বি ১২,কোলেস্টেরল। আমরা যতগুলো খাবার সম্পর্কে জানি তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দুধ। দুধে আছে যথেষ্ট উপকারিতা। যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য দুধ একটি আদর্শ খাবার। শরীরের দুর্বলতা দূর করতে ও শরীরকে সবল রাখতে দুধের কোন তুলনাই চলে না। 

দুধ মাংসপেশি গঠনে বিরাট ভুমিকা পালন করে। শরীরের শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। 

তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত প্রতিদিন ১গ্লাস করে দুধ পান করা।

২.ডিম

ডিম আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় খাবার। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরাই ডিম খেতে পছন্দ করে না। আসলে তারা জানেই না যে ডিমে কত পুষ্টিগুন বিদ্যমান। ডিম একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাবার। একটি সিদ্ধ ডিমে আছে শর্করা, স্নেহ পদার্থ, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম,পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ আরো অনেক ধরনের উপকারী উপাদান। শিশুসহ,বাড়তি বয়সের ছেলেমেয়ে, বৃদ্ধ সকল বয়সের মানুষের জন্য ডিম একটি আদর্শ খাবার। আমাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় একটি ডিম রাখা অপরিহার্য। দুর্বলতা দূর করতে ডিমের ভূমিকা অপরিহার্য। 

তাই স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় ডিমের কোন তুলনাই হয় না।

৩.মাছ

স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় মাছের ভূমিকা অপরিসীম।আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে মাছে ভাতে বাঙ্গালী। আর আমাদের দেশে মাছ ছাড়া ভাত চলেই না। মোটকথা বাঙালি সবাই মাছ পাগল। মাছের যেমন উপকারী দিক আছে তেমনি কিছু খারাপ দিক ও আছে। তবে সব মাছে না। সামুদ্রিক মাছ এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমানে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। তাই সামুদ্রিক মাছ যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। 

আমাদের দেহে আমিষের অভাব পূরণে মাছের ভূমিকা অপরিসীম। কিছু কিছু মাছে আছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন, খনিজ তেল,আয়রন, ক্যালসিয়াম,ফসফরাস।  

আমাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় যেকোনো ধরনের মাছ রাখা উচিত। যাতে আমাদের শরীর পায় শক্তি। আর আমরা পাবো কাজ করার আগ্রহ। 

৪.কলা

কলা একটি রুচি সম্মত ও স্বাস্থ্যকর খাবার। কলা সব জেলাতেই বারো মাস পাওয়া যায়। বলতে গেলে সবার হাতের নাগালে। আর তাই প্রতিদিন ১-২ টি কলা খাওয়া আমাদের জন্য খুব একটা কঠিন নয়। কিন্তু আমরা অনেকেই কলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানিনা। প্রতি ১০০ গ্রাম কলাতে রয়েছে আমিষ,খনিজ লবন,শর্করা, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম,ভিটামিন- সি ও অল্প পরিমানে ভিটামিন- বি কমপ্লেক্স।

কলা মানুষের ত্বক সুস্থ, সুন্দর ও আকর্ষণীয় করতে দারুণ ভুমিকা পালন করে। আমাদের মনকে সতেজ রাখতে ও শরীরে শক্তি যোগাতে কলার কোন তুলনাই হয় না।

বিভিন্ন পুষ্টিবিদরা বলেন দিনে দুটি কলা খাওয়া উচিত। এতে আমাদের শরীর থাকবে সুস্থ ও ফিট। 

কলা হৃদযন্ত্র ভালো রাখে। কিডনি ভালো রাখে।খাদ্য হজমে সহায়তা করে। আমাদের পেট পরিষ্কার করে। আমাদের মানসিক চাপও কমাতে সহায়তা করে।

৫.গাজর

আমরা সবাই গাজর একটি স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে চিনি। বলা যায় শীতকালীন সকল সবজিগুলোর মধ্যে গাজর অন্যতম। আমাদের দেহের রোগমুক্তি ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে গাজর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাজর কাচাঁ বা রান্না যেকোন ভাবেই খাওয়া যায়। অনেকে সালাদ হিসেবে গাজর খুব পছন্দ করে। 

গাজর আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সবচেয়ে বড় উপকারিতা হল গাজর ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। গাজর ত্বক উজ্জ্বল করে। আমাদের ত্বক দাগ পড়া থেকে রক্ষা করে। 

তাই আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য ও শরীরের পুষ্টিগুন বিবেচনা করে নিয়মিত অন্তত একটি গাজর খাওয়া উচিত। 

৬.আপেল

স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে আপেল অন্যতম। আপেল সুস্বাদু ফল হিসেবে পরিচিত। একটি আপেলে প্রায় ৮০% পানি থাকে। যেই পানি আমাদের শরীরের জন্য খুব জরুরি। আপেলে আছে ভিটামিন- সি,ভিটামিন-কে,ভিটামিন-ই। আরো আছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম,আয়রন, পটাশিয়াম,ফসফরাসস অনেক ধরনের পুষ্টিগুন।যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

আপেল ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।আপেল হজম শক্তি বাড়ায়।আপেল ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। দাঁতকে মজবুত করে। এছাড়াও আপেল ওজন কমাতে দারুণ ভুমিকা পালন করে। তাই আমাদের অন্তত দিনে একটি আপেল খাওয়া উচিত। 

৭.পেয়ারা

স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় পেয়ারাও কোন অংশে কম নয়। পেয়ারা অত্যন্ত ভিটামিন যুক্ত একটি খাবার। পেয়ারাতে আছে ভিটামিন-এ,ভিটামিন-সি। এছাড়াও আছে ক্যালসিয়াম,প্রোটিন ও আরো খাদ্য উপাদান। 

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পেয়ারা রাখা উচিত। 

পেয়ারা ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে। এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্রিয় ভুমিকা পালন করে। পেয়ারা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে ব্যপক ভুমিকা পালন করে। 

৮.বাদাম

স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর মধ্যে স্বল্পমূল্যে ও কার্যকরী খাবার হল বাদাম। আমরা বাদাম সবসময় হাতের নাগালেই পেতে পারি। প্রায় রাস্তা ঘাটে,স্টেশনে,রেলওয়ে, পার্ক সব জায়গাতেই বাদাম পাওয়া যায়। বাদাম আমরা অনেকে সখের বসে খেলেও জানিনা এর গুনাগুন সম্পর্কে। পুষ্টিগুন বিবেচনায় বাদামের গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক ধরনের বাদাম আছে যেমন- কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম, আখরোট বাদাম।প্রায় সব ধরনের বাদামই শরীরের জন্য খুব উপকারী।

বাদাম স্বরণশক্তি বাড়াতে দারুণ ভুমিকা পালন করে। বাদামে আছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, ফাইবার,ক্যালসিয়াম,আয়রন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম সহ অনেক ধরনের পুষ্টিগুন। যা আমাদের শরীরকে করে সতেজ ও ফিট। আমরা পাই কাজ করার শক্তি। কাজে পাই আনন্দ।

বাদাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। আমাদের হার্টকে সুস্থ ও সবল রাখে।বাদাম ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। আমাদের চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। 

আমাদের উচিত স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় অবশ্যই বাদাম যুক্ত করা ও নিয়মিত বাদাম খাওয়া।

উপসংহার  

পরিশেষে বলা যায়, সকল বয়সের মানুষের জন্যই স্বাস্থ্যকর খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবার যুক্ত থাকলে আমরা পাবো একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন। আর আমাদের শরীর ভালো থাকলে আমরা কাজে পাবো আনন্দ ও শক্তি। তাই আমাদের স্বাস্থ্য সচেতনতার চিন্তা করে বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। 

Leave a Comment